শিক্ষার্থীর পরিবারের দেওয়া অপবাদ ও সামাজিক চাপ সইতে না পেরে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক সাব্বির হোসেন (২৫)।গতকাল সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের পর মাদ্রাসা শিক্ষক সাব্বির নওদাপাড়া গ্রামের নানির বাড়িতে ঘাস পোড়ানো বিষপান করে। সাব্বির দেবিপুর গ্রামের স্কুল পাড়ার মৃত কাফিরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবীপুর গ্রামের ৭ বছর বয়সী এক ছেলেকে বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন শিক্ষক সাব্বির হোসেন। পরিবারের সদস্যরা সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে ঐ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার পর থেকে সাব্বির তার নানার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। গত শনিবার(১১ এপ্রিল) এ নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি হয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করে এবং জেলা ও উপজেলার কোন মাদ্রাসায় তাকে শিক্ষকতা করার সুযোগ না থাকায় অপমান সইতে না পেরে সে বিষপানে আত্মহত্যা করে। তবে এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাব্বিরের চাচা মন্টু জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১১ই এপ্রিল ঐ শিক্ষার্থীর বাড়িতে যায় এবং কথাবার্তা বলি। তবে ওই পরিবারের সদস্যরা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট বলেন, প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনায় মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সাব্বিরকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি আরো বলেন, বিকৃত মন-মানসিকতার লোক তো আর রাখা যায় না।
গাংনী থানার ওসির উত্তম কুমার দাস জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর নিশ্চিত কারন জানা যাবে।

