মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভরাট গ্রামে এক নারীকে নিয়ে দুই পুরুষের মধ্যে কাড়াকাড়ি ও সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ভরাট গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদে এই সংঘর্ষ ঘটে। গুরুতর আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, সহড়াতলা গ্রামের সাহাজুল ইসলামের কন্যা লাকি খাতুনের সঙ্গে উত্তর ভরাট গ্রামের কালু শেখের ছেলে মিঠন আলীর বিয়ে হয়েছিল। তাদের একটি তিন বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। মিঠন প্রবাসে থাকার সময় লাকি দক্ষিণ ভরাটের টিপু সুলতানের ছেলে শিমুল হোসেনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে লাকি শিমুলকে বিয়ে করে বাড়িতে চলে যান। মিঠন প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন।
রবিবার সকালে মিঠন কয়েকজন লোক নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে শিমুলের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক লাকিকে সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের সাতজন আহত হন।
লাকি খাতুন জানান, মিঠন প্রবাসে থাকাকালীন নানা রকম গালাগালি করত, টাকা-পয়সা দিত না। বাধ্য হয়ে তিনি ছয় মাস আগে মিঠনের সঙ্গে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেছেন। রবিবার সংঘর্ষের সময় প্রতিবেশীরা এসে তাদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে। তবে তার শাশুড়ীর কাছ থেকে তারা গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ এক লাখ সত্তর হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল ফেলে যায়।
অন্যদিকে মিঠন দাবি করেছেন, লাকি তাকে তালাক দিয়েছে কি না তা জানি না। তার দেওয়া ছয় লাখ টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণের গহনাও লাকি গোপনে নিয়ে পালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার টাকা ও গহনা ফেরত দিতে হবে।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষই মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।

