চুয়াডাঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে দামুড়হুদায় এসে চুরির শিকার হয়েছেন এক অটোরিকশা চালক। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হাটে রাখা তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে অজ্ঞাত চোর। এই ঘটনায় আয়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন চালক ইউসুফ।
ভুক্তভোগী ইউসুফ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় কোরিয়া পাড়ার বাসিন্দা। তিনি আবুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ইউসুফ তার অটোরিকশা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে দামুড়হুদায় আসেন। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার আগে তিনি ভাবেন হাট থেকে পরিবারের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় বাজার করে নেবেন। সেই উদ্দেশ্যে দামুড়হুদা হাটের একটি স্থানে অটোরিকশাটি রেখে তিনি বাজারের ভেতরে যান।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাজার করে দ্রুত ফিরে এসে তিনি দেখেন যেখানে অটোরিকশাটি রেখেছিলেন সেখানে সেটি আর নেই। জনাকীর্ণ হাটের মধ্য থেকে সুকৌশলে অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোর। মুহূর্তের মধ্যে তার চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়।
অটোরিকশা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউসুফ। তিনি বলেন, প্যাসেঞ্জার নামিয়ে দিয়ে ভাবলাম বাড়ির জন্য একটু বাজার করে নিয়ে যাই। কয়েক মিনিটের জন্য গাড়িটি রেখে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি গাড়ি নেই। এই অটোরিকশাটি চালিয়েই আমার সংসার চলত। এখন আমি পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় লোকজন জানান, ইউসুফের সংসার খুবই অভাবের। এই অটোরিকশাটিই ছিল তার আয়ের একমাত্র উৎস। তার কান্না ও অসহায় অবস্থা দেখে হাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দুঃখ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় দামুড়হুদা ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে খোঁজ নেওয়া হয়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অটোরিকশাটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী ইউসুফ। স্থানীয়রা দ্রুত অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং চোরদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

