মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় বিচার চলাকালীন এক ব্যক্তি পাথর নিক্ষেপ করে বিচার কার্যক্রমকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করেছে। ঘটনার সময় খোলা এজলাসে বিচার চলছিল, হঠাৎ জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাসের মধ্যে এসে পড়ে। এতে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
কোর্ট পুলিশের দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম অভিযুক্ত শরীফ-কে হাতেনাতে আটক করেন। তিনি মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত আদালতের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে প্রবেশে বাধা পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাথর নিক্ষেপ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং দেশের সঠিক পরিচালনা না হওয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করা উচিত। এ সময় তিনি ‘আমি মরলে শহীদ হব’ উল্লেখ করে অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়। অভিযুক্তের দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি খাতা ও একাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব কাগজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য সম্বলিত উস্কানিমূলক লেখা রয়েছে। এজলাস কক্ষে নিক্ষিপ্ত পাথরও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার পর মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী মাসুদ রানা মেহেরপুর সদর থানায় ঘটনার বিবরণসহ একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তের মানসিক অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের তরফে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিরোধে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানা গেছে।

