Home » চুয়াডাঙ্গায় ফসলের খেত থেকে উদ্ধার হওয়া ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনী

চুয়াডাঙ্গায় ফসলের খেত থেকে উদ্ধার হওয়া ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনী

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 53 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের মাখালডাঙ্গা স্কুলপাড়া এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা সাতটি ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের কাছে ধ্বংস করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল এগারোটার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযান দুপুর দেড়টায় সফলভাবে শেষ হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই ফসলের জমিতে ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তুগুলো প্রথম শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকেই এলাকাটি জনসাধারণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়। আজ সেনাবাহিনীর দক্ষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব বস্তু ধ্বংস করে।

অভিযানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন মোঃ সেলিম ও ক্যাপ্টেন মোঃ রিফাত। পুরো কর্মকাণ্ডে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার এই অভিযান কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

অভিযান চলাকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাখালডাঙ্গা স্কুলপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণের উচ্চ ঝুঁকির কারণে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কাছ থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সংবাদ সংগ্রহ করা হয়।

অভিযান শেষে দুপুর দেড়টার দিকে এলাকাটি ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ এক মাস ধরে এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকলেও এবার স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ফসলের মধ্যে ল্যান্ডমাইন থাকার কারণে তারা মাঠে কাজ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। সেনাবাহিনীর এই সফল অভিযান তাদের জন্য বড় শান্তির বার্তা বহন করেছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ল্যান্ডমাইন ধ্বংসে সকল প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার স্থাপন করা হয়। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত ছিল।

স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, ফসলের ক্ষেত থেকে ল্যান্ডমাইন ধ্বংসের এই অভিযান নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলা আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি অনুভব করছে। এবারের সফল অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।

সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় মাখালডাঙ্গা স্কুলপাড়া এলাকা এখন ঝুঁকিমুক্ত। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.