Home » গাংনীতে নির্মাণের তিন দিনের মধ্যেই ভাঙতে শুরু জেলা পরিষদের সড়ক

গাংনীতে নির্মাণের তিন দিনের মধ্যেই ভাঙতে শুরু জেলা পরিষদের সড়ক

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 30 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

 

নির্মাণের মাত্র তিন দিনের মাথায় ভাঙতে শুরু করেছে জেলা পরিষদের বরাদ্দে নির্মিত একটি হেয়ারিং বন্ড সড়ক। ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঝোড়াঘাট গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার তিন দিনের মধ্যেই সড়কের দুপাশ দেবে গেছে এবং ইট ভাঙতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ইট সরে গিয়ে নিচের বালু বেরিয়ে পড়েছে। ফলে সড়কটি দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, মাত্র তিন দিন আগে রাস্তার উপর নামমাত্র বালু দিয়ে ইট বসিয়ে কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারের লোকজন। কোনো রোলার চালানো হয়নি, ঠিকমতো কম্প্যাকশনও দেওয়া হয়নি। এখন সাইকেল চালালেই ইট দেবে যাচ্ছে, ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে রাস্তা করলে তো দুই-চার দিনের বেশি টিকবে না।
একই এলাকার হারুন অর রশিদ বলেন, খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ইটগুলো হাতে নিলেই ভেঙে যাচ্ছে। সরকারের টাকা খরচ করে এমন কাজ হলে জনগণের উপকারের বদলে অপচয়ই হবে। আমরা চাই, সড়কটি পুনরায় সঠিক মান বজায় রেখে নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ, মাটির সমতলকরণ ও যথাযথভাবে বালু ও ইট বসানোর নিয়ম মানা হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাস্টার রোলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হাবিব বলেন, এক নম্বর ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। কিছু জায়গায় বসে যেতে পারে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর সময় কোনো সাইনবোর্ড টানানো হয়নি এবং প্রকল্পের মেয়াদ, বরাদ্দ ও বাস্তবায়নকারী সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.