মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে ভুয়া সমতা বিল তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রণীত সমতা বিলের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে গত বৃহস্পতিবার তিনি বিলটা পুনরায় শিক্ষা অফিসে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমতা বিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের আলোকে গাংনী উপজেলায় ৫৫ জন শিক্ষকের একটি তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই তালিকায় ২০১২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত বালিয়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা নিয়ম বহির্ভূত।
অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনের নামে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৯২ টাকার একটি ভুয়া বিল ভাউচার প্রস্তুত করা হয়। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসিমা খাতুন জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি বিলটি প্রস্তুত করেছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া স্লিপের অর্থ থেকে মোটা অংকের কমিশন দাবি করা হয়। কমিশন না দিলে ভবিষ্যতে বরাদ্দ না দেওয়ার হুমকি ও বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় শিক্ষকদের।
গাংনী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের জুনিয়র অডিটর সাইফুল ইসলাম বলেন, সমতা বিলের জন্য ৫৫ জন শিক্ষকের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় বিলটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
হিসাব সহকারী নাসিমা খাতুন বলেন, টিও স্যার যেভাবে বিল প্রস্তুত করতে বলেছেন, আমি সেভাবেই করেছি। ২০১২ সালের নিয়োগপ্রাপ্ত সাখাওয়াত হোসেনের নাম কীভাবে যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্যারই ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তালিকাভুক্ত শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, একজন শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব না থাকায় তাকে সহযোগিতার জন্য আমার হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেও উল্লেখ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, সমতা বিল সংক্রান্ত কোনো ভুয়া তথ্য বা বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়নি।
মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র বলেন, ভুয়া সমতা বিল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পূর্ববর্তী পোস্ট

