Home » যেসব বিষয়ে আটকে আছে আসিফ–মাহফুজের রাজনৈতিক দলে যোগদান

যেসব বিষয়ে আটকে আছে আসিফ–মাহফুজের রাজনৈতিক দলে যোগদান

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 159 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম কোন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচন করবেন—এ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। তারা কোনো দলে যোগ দেবেন, নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন—এ প্রশ্ন ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গুঞ্জন ছিল, আসিফ মাহমুদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা-১০ আসন থেকে এবং মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। তবে উভয় আসনেই ইতোমধ্যে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদেও তাদের যোগদানের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

সবশেষে নিজেদের ‘ঘর’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতেই (এনসিপি) আসিফ ও মাহফুজের থিতু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বেশ কয়েকটি শর্ত ও সমঝোতার ওপর।

দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা এবং আসিফ–মাহফুজের ঘনিষ্ঠ সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ—তিনটি দলই তাদের দলে ভেড়াতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা বিবেচনায় রেখে হিসাব-নিকাশ মিলাচ্ছেন এই দুই নেতা।

ইতোমধ্যে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আসিফ ও মাহফুজের একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের এনসিপিতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে যোগদানের আগে নিজেদের পদমর্যাদা ও সাংগঠনিক অবস্থান নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত দেনদরবার চলছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মাহফুজ আলমকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সদস্যসচিব বা সমমর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব পেতে আগ্রহী। তিনি আহ্বায়কের পরেই ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ ধরনের পদ চান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, অভ্যুত্থানের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতা হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আলম সরাসরি সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগে আগ্রহী না হলেও দলে সম্মানজনক ও নীতিনির্ধারণী অবস্থানে থাকতে চান। মূলত এই পদবণ্টন ও সাংগঠনিক ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারণ নিয়েই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে।

এ বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতন ঘটানো চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দুই ছাত্রনেতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী দলে যোগ দেওয়া স্বাভাবিক।’

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক-উস-সালেহীন বলেন, ‘তারা জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও আমাদের সহযোদ্ধা। তারা এনসিপিতে এলে আমরা স্বাগত জানাব। তবে তারা কোন দলে যোগ দেবেন বা কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত এবং দলীয়ভাবে নির্ধারিত হবে।’

এর আগে দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের পর এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আসিফ জনতার কাতারে এসেছেন। তারা এনসিপিতে এলে আমরা স্বাগত জানাব।’

এদিকে নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদেও আসিফ মাহমুদের যোগ দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ আমাদের সঙ্গে আগে রাজনীতি করেছেন। তিনি যদি আমাদের দলে আসতে চান, তার যোগ্যতা ও মর্যাদা অনুযায়ী তাকে সম্মানিত করা হবে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। এর তিন দিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি তার নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের বড় একটি অংশ তখনই এনসিপিতে যোগ দেন। তবে আসিফ ও মাহফুজ অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ থাকায় তখন যোগ দেননি।

গত ১০ ডিসেম্বর তারা সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিতে যোগ দেওয়ার নানা আলোচনা শুরু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুই নেতা এনসিপিতেই যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

এনসিপির নেতাদের মতে, আসিফ ও মাহফুজ দলে যোগ দিলে দলটির রাজনৈতিক কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। আন্দোলন-পরবর্তী রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্ব ও বড় দলগুলোর সমন্বয়ে এনসিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

তবে কোন দলে যোগ দেবেন—এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম এখনো প্রকাশ্যে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। কৌশলী অবস্থান নিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.