Home » মেহেরপুর জুড়ে হুকুমের চাঁদা—কার কাছে যাবে মানুষ?

মেহেরপুর জুড়ে হুকুমের চাঁদা—কার কাছে যাবে মানুষ?

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 41 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক
মেহেরপুরের নাম আজ নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে আরেকটি শব্দের সঙ্গে—‘নীরব চাঁদাবাজি’। গ্রাম থেকে গ্রাম, পাড়া থেকে মহল্লা—অভিযোগের স্রোতে উঠে আসছে একই কথা; আড়ালে চলছে অবৈধ অর্থ আদায়ের এক অঘোষিত দৌরাত্ম্য। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, কথিত সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন নামে-বেনামে গড়ে ওঠা কমিটির কর্তৃত্ব—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেন হয়ে উঠছে চরম আতঙ্কের আরেকটি নাম।
কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর—যেই হোন না কেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর কারও না কারও কাছ থেকে পৌঁছে যাচ্ছে ‘দাবিনামা’। কেউ সরাসরি অর্থ দাবি করছে, আবার কেউ নিচ্ছে “সহযোগিতা” বা “অনুদান”-এর নাম করে টাকা। না দিলে নানাভাবে হুমকি, সামাজিক অপমান, ভয়ভীতি কিংবা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে নানা মহলে। অনেকেই মুখ খুলতে চান, কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই বেছে নিচ্ছেন নীরবতা। এই অবৈধ অর্থ আদায়ের চাপে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ক্ষয়ে যাচ্ছে; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ব্যবসা। কৃষকের মাঠের ঘামঝরা ফসলের লাভের বড় অংশই কখনও কখনও চলে যাচ্ছে এই চাঁদার পেছনে। ফলে পরিবার চালানো, সন্তানের পড়াশোনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়—সবকিছুতেই পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। গ্রামীণ অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকেরা। আইনের শঙ্কার চেয়ে প্রতিশোধের ভয়েই অনেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ তুললে তাকে নানা জটিলতায় জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আবার কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগও শোনা যায় স্থানীয়দের মুখে। ফলে ভয়, নীরবতা আর অসহায়ত্বের দেয়াল আরও পুরু হয়ে যাচ্ছে, অপরাধীরাও হয়ে উঠছে আরও বেপরোয়া।
একজন কৃষক জানান, “ফসল তুলতে পারলেই খুশি হওয়ার কথা, কিন্তু এখন ভাবতে হয়—কতটা নিজের কাছে রাখতে পারব, আর কতটা দিতে হবে!” একজন মুদি ব্যবসায়ীর ক্ষোভ— “ব্যবসা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে টাকা দিতেই হয়। না দিলে হুমকি আসে, কখনো দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ দিয়েও তেমন লাভ নেই।” পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন মেহেরপুরের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ ও কার্যকর তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তাই ফিরিয়ে দিতে পারে মানুষের আস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা ও স্থানীয় প্রশাসনের শক্ত অবস্থান আজ সময়ের দাবি। স্থানীয়দের স্পষ্ট বক্তব্য—এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন শক্তিশালী প্রশাসনিক নজরদারি, ন্যায়সংগত ব্যবস্থা, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা। তারা আশা করেন, দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেহেরপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—ভয়মুক্ত, স্বাভাবিক ও মর্যাদার জীবন। গ্রামবাংলার শান্ত, সহজ জীবনে যেন আবারও ফিরে আসে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.