মেহেরপুর মুজিবনগরে যৌথ বাহিনির অভিযানে ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ) একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলিসহ মোঃ বিল্লাল হোসেন (৪২) নামে একজন আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক বিল্লাল হোসেন যতারপুর গ্রামের মরহুম মাদার আলী বিশ্বাসের ছেলে। মেহেরপুর আর্মি ক্যাম্পের এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন মেজর এম এ এন রওশন আলম।
অভিযানকালে তার শয়নকক্ষের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আটক মোঃ বিল্লাল হোসেন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চোরাচালান, মানি লন্ডারিং, অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় তার অপরাধ নেটওয়ার্ক দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই যতারপুর ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ লেনদেন ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তির পাশাপাশি নতুন করে নানা প্রশ্নও উঠেছে—এই অস্ত্র কোথা থেকে এলো, আর এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত? অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটক বিল্লাল হোসেনকে মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রপ্তি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের অভিযোগগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই অস্ত্র ও অপরাধচক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে যৌথ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু একজন সন্ত্রাসী আটক নয়, বরং পুরো অপরাধ নেটওয়ার্ক উন্মোচনের পথ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্ববর্তী পোস্ট

