ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক মাস বয়সী শিশুকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার সকালে মহেশপুর উপজেলার গুরদাহ পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত শিশুর নাম আরাফাত। সে পাথিলা দত্তনগর গ্রামের রকিবুলের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরাফাত তার মা আঁখি তারার সঙ্গে নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল। সকালে আঁখি তারা শিশুটিকে ঘরে রেখে অন্যত্র গেলে ওই সময় ঘরে থাকা তার বড় ভাই আকাশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখেন শিশুটির গলায় গভীর ক্ষত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় সে ছটফট করছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়। তারা জানান, গলার প্রধান রক্তনালী অক্ষত থাকায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মামা আকাশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

