Home » ভোক্তা অধিকারের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার: শাস্তি না সংশোধন—উঠেছে প্রশ্ন

ভোক্তা অধিকারের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার: শাস্তি না সংশোধন—উঠেছে প্রশ্ন

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 174 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মতো স্পর্শকাতর মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী বিক্রির ঘটনায় শাস্তির মাত্রা নিয়ে এলাকায় উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু ওষুধসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দোকানে পাওয়া গিয়েছে—এমন অভিযোগ থাকলেও জেল-দণ্ডের পরিবর্তে জরিমানায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযানকালে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির দায়ে আকমল স্টোরের স্বত্বাধিকারী আকমল হোসেনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের অভিযোগে আমিন মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী রাশেদুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুতের অপরাধে এসএস ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মফিজুর রহমানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের সময় প্রাথমিকভাবে জরিমানার অঙ্ক বেশি করা হলেও দরদাম ও তদবিরের পর তা কমিয়ে আনা হয়। বিশেষ করে যে দোকানে ২০২৪ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল-দণ্ড না দিয়ে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে পরে তা কমিয়ে ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। আরও অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধার করা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা হয়নি। এ ছাড়া আকমল স্টোরে ২লাখ টাকা তা কমিয়ে ১ লাখ টাকা, আমিন মিষ্টান্ন ভান্ডারের ১ লাখ টাকা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নয়—ব্যবসায়ীকে সংশোধন করাই ভোক্তা অধিকারের লক্ষ্য। এই ব্যবসায়ীরা তাদের ভুল সংশোধনের সময় চাওয়ায় তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রিয়াজ মাহমুদ, গাংনী উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান, গাংনীর আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তবে এলাকাবাসীর দাবি—জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা, জরিমানার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এবং জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য প্রকাশ্যে ধ্বংস নিশ্চিত করতে হবে।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.