Home » চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা-গাংনী পৌর নির্বাচনে আশরাফুল ইসলামের প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন

চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা-গাংনী পৌর নির্বাচনে আশরাফুল ইসলামের প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 35 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

 

আসন্ন গাংনী পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বাতাসে নতুন রং ছড়িয়ে পড়েছে। চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লার আড্ডা, বাজারের আড্ডা-সবখানেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক মেয়র আশরাফুল ইসলামের নাম। অনেকের মনে নতুন করে কৌতূহল, আবারও তিনি কি ভোটারের হৃদয়ে ফিরে আসবেন? আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলোও, স্থানীয়দের মধ্যে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে উত্তেজনা স্পষ্ট।

আশরাফুল ইসলাম ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত দুই দফায় গাংনী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মেয়াদকালকে অনেকেই মনে করেন মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সময়। পৌর শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজের হাতে ঝাড়ু তোলার দৃশ্য, ড্রেনেজ ঠিক করা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা-এগুলো ছিল তার দিনের স্বাভাবিক কাজ। কিন্তু তার প্রকৃত পরিচয় হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিকতা।
রাতের শহরে আলোকসজ্জা বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে দেখা-প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছিল। আশরাফুল ইসলামের সময় শহর সুন্দর হতো, মানুষের মনেও স্বস্তি ফুটে উঠত,স্থানীয়দের কথাগুলো তাইই প্রমাণ করে।

প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে কিছু বিতর্কও ছিল। সমর্থকরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবুও মানুষের কাছে তার মানবিক চিত্রই সবচেয়ে শক্তিশালী।

২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সেই সময়ে সংঘটিত হামলায় তিনি আহত হন, এবং তার বৈধ অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হারাতে হয় দলীয় পদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অধ্যায় তার জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও মানুষের পাশে থাকার নৈতিক মানসিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে।

করোনাকালে তার মানবিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে নজর কাড়ে। অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য, ঔষধ ও অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, মানুষকে সচেতন করার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে লাঠি হাতে মাস্ক বিতরণ—এই দৃশ্যগুলো আজও মানুষের মনে জীবন্ত। তার লাঠি ছিল শাসনের প্রতীক নয়, সতর্কতার বার্তা, আগে জীবন, তারপর কাজ।

বর্তমানে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা, বাজার-প্রায় সব জায়গাতেই তার নাম আলোচিত। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ক্লিন ইমেজ, মানবিক ও কর্মঠ প্রার্থী হিসেবে তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিলে পৌর রাজনীতির পরিবেশ বদলে যেতে পারে।

দীর্ঘদিনের পৌরবাসীর অভিজ্ঞতাও এ প্রত্যাশাকে শক্তিশালী করছে। কেউ বলেন, পৌরসেবা নিতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। কেউ বলেন, দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা একেবারে প্রয়োজন। এ প্রত্যাশার সঙ্গে আশরাফুল ইসলামের মানবিক ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি মিলিত হয়ে আশা ও বিশ্বাসের এক আলো দেয়।

চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা-সকলের মুখে উঠে আসে একই বার্তা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত পৌরসভা করতে একমাত্র আশরাফুল ইসলামই যথেষ্ট। অভিজ্ঞতা, সততা, মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক,এই তিনের মেলবন্ধন তাকে ভোটারের চোখে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, গাংনী পৌরবাসীর ভালোবাসা ও আস্থাই আমার রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে-সুখে-দুঃখে, দুর্যোগে কিংবা সংকটে। ভবিষ্যতেও যদি পৌরবাসী আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার মতো মনে করেন, তাহলে তাদের প্রত্যাশা পূরণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। একটি দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক গাংনী পৌরসভা গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

যদিও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হওয়া এখনো নিশ্চিত নয়, তবুও তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গনকে সরব করে তুলেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি তিনি অংশ নেন, নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.