মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বণ্টন এবং প্যানেল চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম গ্রুপ এবং গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু এবং সারগিদুল ইসলাম গ্রুপের শালদহ গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমেদ, একই গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে খাইরুল ইসলাম এবং আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে বকুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন।
আহত খাইরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আলফাজ উদ্দিন কালুর লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে হামলা করতে আসে। তাদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার থেকেই বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে আলফাজ উদ্দিন কালুর লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাঙচুর করতে পারে। এই খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে তারা ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান কে এ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালুর সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। পরে তারা স্লোগান দিতে দিতে হামলা চালায় এবং কয়েকজনকে আহত করে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বণ্টনে অনেক গরিব মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। একটি পক্ষ নিজেদের মধ্যে চাল ভাগাভাগি করছে। এলাকার মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় অবরোধ করতে পারে এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দাল হক বলেন, তারা ভিজিএফ চালের সুষ্ঠু বণ্টন চান। বঞ্চিত মানুষেরা সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে সংঘর্ষের কোনো ইচ্ছা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

