অনলাইন জুয়ার অন্যতমহোতা মো: তুষার ইমরান (৩৩) ওরফে তুষারকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ । বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার চাঁদবিল কোলার মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তুষার চাঁদবিল গ্রামের -মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে। সে সাইবার সুরক্ষা আইনের দ্বিতীয় মামলার ৯ নং আসামি। এসময় তার কাছ থেকে একটি মটোরোলা স্মাটফোন, একটি নকিয়া বাটন ফোন, নগদ এক লক্ষ টাকা ও একটি ডেবিট কাড।
নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজারের বেশি জুয়ার সাইট বন্ধ করেছে এবং বহু এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। তবুও থামছে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার। এতে নিঃস্ব হচ্ছেন দেশের হাজারো তরুণ-তরুণী ও পরিবার।বাংলাদেশে আগে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান না থাকায় গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সরকার অনলাইন জুয়াকে সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় আনে। এ আইনে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব এখনও সীমিত। মেহেরপুরে গ্রামের কিছু এজেন্ট গ্রেপ্তার হলেও মেহেরপুর শহরের কয়েকডজন বিগতগামী যুবক এখনো লয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে।
২৩ ফেব্রুয়ারি অনলাইন জুয়া চক্রের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তার স্বিকার উক্তির ভিত্তিতে আরও ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫- এর আওতায় মেহেরপুর জেলায় দ্বিতীয় মামলা দায়ের করা হয়। এয় মামলার আরও আসামিরা হলেন – মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামান ফিলসন (৪৭), হরেন হালদারের ছেলে অসিম হালদার (৩৩), সাইফুল (৩২), খোকন সরদারের ছেলে সাদ্দাম (৩৫), মাস্টার, বিলু সরদারের ছেলে শামীম (৩০), শিবপুর গ্রামের ভগা শেখের ছেলে সাইদুল ইসলাম শেখ (২৮), মোনাখালীর নজরুল ইসলামের ছেলে পলাশ (৩৫), গোপালপুর গ্রামের তুষার (২৭), আলমের ছেলে স্বপন মাহমুদ (৩৫), কোমরপুর বাজারে অবস্থিত রোজ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মাসুদ (৪২), মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজের প্রভাষক নুরুল ইসলাম (৩৪) ওরফে লালন মাষ্টার, গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের পুকুর পাড়ার নাসিরুল (৩০) ও মেহেদী (২৮), এবং গাড়াডোব মাঠপাড়ার ইসতালিনের ছেলে সেতু (৩৩)।
এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, অনলাইন ক্যাসিনো ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলাব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
পূর্ববর্তী পোস্ট

