মেহেরপুরের মোনাখালি গ্রামের বাসিন্দা রাকিবকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কয়েক বছর আগেও তাদের পরিবারে আর্থিক সংকট ছিল বলে দাবি করেছেন গ্রামের অনেকেই। গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় তিন বছর আগে দেনার দায়ে রাকিব ঢাকায় চলে যান। পরে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকেই তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়। বর্তমানে তার একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে এবং তিনি বেশ আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। মোনাখালি বাজারে রাকিবের একটি ফোনফ্যাক্সির দোকান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, ওই দোকান থেকে বড় ধরনের আয় হওয়ার কথা নয়। তবুও তিনি কর্মচারী রেখে দোকান পরিচালনা করেন এবং বেশিরভাগ সময় নিজে সেখানে বসেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।
রবিউল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ড মোরশেদুল আলম লিপু গাজীর হাতধরে মোনাখালি উইনিয়নের কয়েক ডজন যুবক অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে লিপু গাজীসহ কয়েকজন আটক হয়েছিলেন। পরে লিপু গাজী জামিনে মুক্ত হলেও অন্য কয়েকজন এখনো কারাগারে রয়েছেন। তারপরও তাদেও কার্যক্রম চলমান রেখেছে তাদেও ভাড়া করা লোকেরা।
তবে রাকিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত নন। তবে তার আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোনফ্যাক্সির দোকান ছাড়া অন্য কোনো আয়ের উৎসের কথা উল্লেখ করতে পারেননি।
মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কয়েকশ তরুণ সেখানে এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি দরিদ্র কিন্তু শিক্ষিত তরুণদের ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে অ্যাপ পরিচালনা করছেন। ফলে মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে রাষ্টীয়ভাবে পদক্ষেপ না নিলে অনলাইন জুয়া বন্ধ করা সম্ভবনা।
পূর্ববর্তী পোস্ট

