রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর শহরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়ায় অবস্থিত মেহেরপুর ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমান এবং তার ছেলে ডা. অভি। গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. অভিকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মজিবার রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেগমকে জরায়ুজনিত সমস্যার অপারেশনের জন্য ক্লিনিকটিতে ভর্তি করা হয়। সারাদিন পর্যেবক্ষণের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ডা. অভির ওপর হামলা চালানো হয়। পরে ক্লিনিকের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত রোগীর ছেলে নাজমুল রহমান বলেন, আমার মাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চিৎকার করেন। এরপরই তার মৃত্যু হয়। তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, ডা. মিজানুর রহমান নাক-কান-গলার চিকিৎসক। তিনি কীভাবে জরায়ুর অপারেশন করেন, সেটাও প্রশ্ন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, অপারেশন টেবিলে নেওয়ার পর হঠাৎ রোগীর প্যানিক অ্যাটাক হয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না।
মেহেরপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী হাসান দিপু বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে অভিযোগ দিলে সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিজানুর রহমান অপু
মেহেরপুর-০১৭১২১৭৯৬৫৩
পূর্ববর্তী পোস্ট

