মেহরপুরের মুজিবনগর উপজেলার জুয়ার টাকায় সুদের ব্যবসা করে কয়েকজন যুবককে নিঃস্ব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে অনেক পরিবার চরম সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামনগর গ্রামের সাইদ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি মুজিবনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগার পদে কর্মরত আছেন। অনলাইন জুয়ার অন্যতম মাষ্টার মাইন্ড নুরুল মাষ্টার ও জামান মাষ্টারের কমরপুর বাজারের সিটি এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানাজার হিসাবে কাজ করতো। সে সময় অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে তিনি গ্রামে সুদের ব্যবসা শুরু করেন। গ্রাহকদের উচ্চ হারে সুদে টাকা প্রদান করা হতো। টাকা দেওয়ার সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক নেওয়া হতো, যা পরে চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কেউ কেউ জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ ঋণের চাপে এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন। এতে করে পুরো এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সুদের লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় একুশ লাখ টাকার মামলা মেহরপুর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার কার্যক্রম চলমান থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, লাখ টাকার বিপরিতে সপ্তাহে দুইহাজার টাকা সুদ হিসাবে পরিশোধ করতে হয়। কড়া সুদে ব্যাবসা করে সাইদ তিনতলা রিাজকিয় বাড়ি করেছে। বাড়িতে ৩/৪ টা এসি লাগিয়েছে। কিন্তু তার টাকার সুদ টানতে টানতে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
অভিযুক্ত সাইদ আদালতে ২১ লাখ টাকার চলমান মামলার কথা স্বিকার করে বলেন, তাদের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক একারনে টাকা ধার দিয়েছিলাম। তারা সময়মত টাকা ফেরত দেয়নি তায় আদালতে মামলা করেছি।
স্থানীয়ভাবে খোজ নিয়ে জানাগেছে একটি মামলার আসামি মুজিবনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সে হিসাবে পরিচয়। এছাড়া আর কোন ব্যাক্তির সাথে তার কোন সম্পর্ক নেয়।
পূর্ববর্তী পোস্ট

