মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগেও মুদি ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি গ্রামের বিরোধ। এলাকায় তিনি ‘ক্যাসিনো বিরোধ’ নামেও পরিচিত। মোনাখালি গ্রামের আওলাদের ছেলে বিরোধ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে বাবার মুদি দোকানে বসতেন। পরবর্তীতে উন্মুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তিনি পাস করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন না। পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল মোনাখালি বাজারের ছোট একটি মুদি দোকান। তবে বর্তমানে বিরোধের রয়েছে তিনটি মোটরসাইকেল—একটি সুজুকি ও দুটি পালসার—এছাড়া একটি প্রাইভেটকারও রয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মোনাখালি বাজার একটি ছোট গ্রামীণ বাজার। একটি মাত্র মুদি দোকানের আয়ে স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব নয়। গত কয়েক বছরে বিরোধের চলাফেরা, গাড়ি সংগ্রহ ও জমি কেনাবেচা দেখে অনেকেই বিস্মিত। তাদের অভিযোগ, মুদি দোকান ছাড়া অন্য কোনো দৃশ্যমান বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তিনি রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন।
এক শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, অনলাইন জুয়ার মূল হোতারা দরিদ্র কিন্তু শিক্ষিত তরুণদের ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে অ্যাপ পরিচালনা করেন। এতে মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়। তার দাবি, লিপু গাজী ও পলাশ নামের দুজনের মাধ্যমে মোনাখালিতে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যেখানে বিরোধ, হাসান, তানিম, বিজয়সহ আরও কয়েকজন যুবক জড়িত। তিনি আরও জানান এদেও কারনে মোনাখালিতে জমজমাট মাদক ব্যাবসা জমে উঠেছে।
তবে বিরোধ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত নন। তার দাদার সাত বিঘা আবাদি জমি ও একটি বাগান রয়েছে, সেখান থেকেও তাদের আয় আসে।
পূর্ববর্তী পোস্ট

