Home » গাংনী এলজিইডিতে প্রকৌশলী রোকনুজ্জামানের হরিলুটের অভিযোগ

গাংনী এলজিইডিতে প্রকৌশলী রোকনুজ্জামানের হরিলুটের অভিযোগ

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 33 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান গাংনী উপজেলার সিন্দুরকৌটা গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নিম্নমানের কাজের বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
বর্তমানে গাংনী-ধানখোলা সড়কের সংস্কার কাজ চলছে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তায় নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কার্পেটিং এতটাই নিম্নমানের যে আঙুলের খোঁচায় উঠে যাচ্ছে। এ সড়কের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, তাদের নীরবতার সুযোগে কুষ্টিয়ার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করছে।
এদিকে, সড়ক সংস্কারে অনিয়মের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করেন এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলায় বর্তমানে অন্তত ১৫টি সড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া নতুন ও সংস্কার মিলিয়ে আরও প্রায় ১৫টি কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, যা ঈদের পর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কাজের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোপালনগর প্রধান সড়ক থেকে লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়মুখী সড়ক, ধানখোলা ইউনিয়নের চাঁন্দামারী, রায়পুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রাম, তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের হিন্দা কবরস্থান সংলগ্ন সড়ক এবং মটমুড়া ইউনিয়নের মোমিনপুর স্কুলমোড় থেকে পারগোয়ালগ্রামমুখী সড়ক নির্মাণ কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সব সময় মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে, মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.