Home » গাংনীতে আলোচনায় জামায়াতের নাজমুল হুদা, ভোটের মাঠে বিএনপির আমজাদ হোসেন

গাংনীতে আলোচনায় জামায়াতের নাজমুল হুদা, ভোটের মাঠে বিএনপির আমজাদ হোসেন

কর্তৃক Mahabobul Haque Polen
নিজস্ব প্রতিবেদক 29 ভিউ
Print Friendly, PDF & Email

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে ভোটের চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদা আলোচনায় থাকলেও মাঠপর্যায়ের হিসেবে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন। তুলনামূলকভাবে কম প্রচারণায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল বাকির।
গাংনীর নতুন সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন—তা জানতে ভোটগ্রহণ শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ফলাফল ঘোষণার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে না পারলেও দলটির একটি বড় অংশের ভোট বিএনপির বাক্সে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, দলমত নির্বিশেষে তারা একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য গাংনী গড়ে তুলতে চান।
মেহেরপুর জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন গাংনী মূলত একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় কৃষিকেই আঁকড়ে ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন সাধারণ মানুষ। ফলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন—এমন প্রার্থীকেই ভোট দিতে আগ্রহী ভোটাররা। পাশাপাশি যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের ভয়াল থাবা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জোরালো।
৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ২৫৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০২ জন। এছাড়া দেশে ও বিদেশে পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছেন ৩ হাজার ১৪২ জন ভোটার। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৯০টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হুদা এর আগে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে মেহেরপুর-২ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সেই দুর্গে আঘাত হানতে মরিয়া জামায়াত ইসলাম।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাথুলী, তেঁতুলবাড়িয়া, কাজিপুর, বামন্দী, মটমুড়া ও সাহারবাটি ইউনিয়নে বিএনপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে ষোলটাকা, রায়পুর, ধানখোলা ইউনিয়ন ও গাংনী পৌরসভায় বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা আলোচনায় থাকলেও ভোটের হিসাবে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন।
এ বিষয়ে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, তার নারী কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নারী কর্মীদের বাধা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. সৈয়দ এনামুল কবির জানান, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.